0 SHARES Share Tweet আমরা জানি “মর্নিং শোজ দ্য ডে”, তাই এই “মর্নিং” আসলে কী দিয়ে শুরু করবো সে ব্যাপারে আমাদের একটু সাবধান হওয়া দরকার। আপনার সকাল হয়তো শুরু হয় এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা অথবা কফি দিয়ে, জানেন কী পুষ্টিবিদরা এর চেয়ে আরো স্বাস্থ্যকর একটি অভ্যাসে...
আমরা জানি “মর্নিং শোজ দ্য ডে”, তাই এই “মর্নিং” আসলে কী দিয়ে শুরু করবো সে ব্যাপারে আমাদের একটু সাবধান হওয়া দরকার। আপনার সকাল হয়তো শুরু হয় এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা অথবা কফি দিয়ে, জানেন কী পুষ্টিবিদরা এর চেয়ে আরো স্বাস্থ্যকর একটি অভ্যাসের কথা বলেন? তা হলো এক কাপ ঈষদুষ্ণ পানিতে অর্ধেকটা লেবুর রস। কেন এই পানীয় এতো স্বাস্থ্যকর?
সবাই জানে লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ঠাণ্ডা-জ্বরের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। পরিষ্কার ত্বক, সুস্থ দাঁত ও হাড়ের জন্যও ভিটামিন সি অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু ভিটামিন সি ছাড়াও লেবুতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে যা মস্তিষ্ক ও নার্ভাস সিস্টেমকে স্টিমুলেট করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা (অ্যাংজাইটি) ও স্মৃতিবিভ্রম ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।
লেবুর রস পরিপাক হবার সময় পটাশিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন হয় যা শরীরের অ্যাসিডিটি বাড়াতে সহায়তা করে। তাই আপনার যদি অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে, তবে লেবুপানি খাবার বেলায় একটু সাবধানতা অবলম্বন করবেন। লেবুর রসে আছে পেক্টিন যা অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ প্রবণতা হ্রাস করে আর কুসুম গরম পানি তৃপ্তিমূলক অনুভূতির জন্ম দেয়, ফলে খাদ্য গ্রহণের ইচ্ছা কমে। আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তবে উষ্ণ লেবুপানি আপনার জন্য মোক্ষম দাওয়াই।
শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে (ডিটক্সিফিকেশন) কুসুম গরম পানির জুড়ি নেই। এটি পাকস্থলীকে উদ্দীপিত করে। লেবুর রসে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল পরিপাকতন্ত্র হতে অতিরিক্ত বিষাক্ত পদার্থ সরিয়ে ফেলে। আমাদের শরীরে যে লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম আছে, তাতে পানিশূন্যতা হলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমে, কোষ্টকাঠিন্য হয়, শারীরিক স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়। এই পানীয়টি লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকেও হাইড্রেট করে। বিভিন্ন ক্রনিক ফ্যাটিগ ও ব্যথা দূর করতেও কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন। একই সাথে মাথা ব্যথা দূর করতেও দারুণ কাজ দেয়। এটি মূত্রবর্ধক, তাই শরীরের অপ্রয়োজনীয় পদার্থের নিষ্কাশন ত্বরান্বিত করে।
লেবুপানি মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে বেশ কার্যকরী। ধূমপানের পর কিংবা যেসব খাবার খেলে মুখে গন্ধ হয় (যেমন- পেঁয়াজ, মশলা যুক্ত খাবার) সেসব খাওয়ার পর লেবুপানি খেলে তা আপনার নিঃশ্বাসকে রিফ্রেশ করবে। তেলযুক্ত ভারী মশলাদার খাবারের পর এক কাপ লেবুপানি হজমের জন্য অনেক উপকারী।
লিখেছেনঃ শান্তা সোহেলী ময়না
ছবিঃ ওয়ালপেপারটুডেস.কম